মোমিন ইসলাম সরকার দেবীগঞ্জ পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার ৩ নং দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের মোড়াতলী থেকে মাঝা পাড়া পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার বর্গমিটার কাঁচা রাস্তা সংস্কার ও এইচবিবি (ইট সোলিং) নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বাজেটে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এ কাজের অনুমোদন দেওয়া হলেও বাস্তবে নিম্নমানের কাজ করার অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মোড়াতলী থেকে মাঝা পাড়া পর্যন্ত সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী ছিল। বর্ষা মৌসুমে কাদা ও জলাবদ্ধতার কারণে এলাকাবাসীকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো। তাই রাস্তা সংস্কার ও ইট সোলিং কাজের জন্য বরাদ্দ দেওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসে। কিন্তু কাজ শুরুর পর থেকেই নানা অনিয়ম চোখে পড়তে শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে, রাস্তার কাজে নির্ধারিত পরিমাণ মাটি ভরাট করা হয়নি। কোথাও কোথাও প্রয়োজনীয় উচ্চতা না বাড়িয়ে সরাসরি ইট বসানো হয়েছে। অনেক স্থানে ইটের নিচে পর্যাপ্ত বালু ব্যবহার করা হয়নি বলেও দাবি করেন স্থানীয়রা। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তার বিভিন্ন অংশে দেবে যাওয়া ও ইট সরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ব্যবহৃত ইটের মানও সন্তোষজনক নয়। কিছু স্থানে ভাঙা ও নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে বলে দেখা গেছে। নির্ধারিত মান ও নকশা অনুসরণ না করে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন। এতে সরকারি অর্থের অপচয় হওয়ার পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, “সরকার উন্নয়নের জন্য টাকা দিচ্ছে, কিন্তু সঠিকভাবে কাজ না হলে আমাদেরই ভোগান্তি পোহাতে হবে। কয়েক মাস পর যদি রাস্তা ভেঙে যায়, তাহলে আবার নতুন করে বরাদ্দের অপেক্ষায় থাকতে হবে।” এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাজ এখনো সম্পূর্ণ শেষ হয়নি এবং নির্ধারিত মান বজায় রেখেই কাজ করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে দ্রুত সরেজমিন তদন্ত প্রয়োজন। সচেতন মহল মনে করছেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এমন অভিযোগ বারবার উঠবে। তারা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হয় এবং এলাকাবাসী টেকসই একটি রাস্তা পায়।