মোমিন ইসলাম সরকার
দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড় প্রতিনিধি;
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফেসবুকে ফেক আইডি ব্যবহারকারীকে সহযোগিতা করে স্থানীয় এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। এবিষয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাংবাদিক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন যে, "Debiganj" নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে দীর্ঘদিন ধরে লালন সরকারের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও মানহানিকর ডিপফেক ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করা হচ্ছে। এসব পোস্টের মাধ্যমে তাকে জড়িয়ে বিভিন্ন অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
ওই পেজে প্রকাশিত একটি পোস্টে মন্তব্য করেন মোঃ জাহিদুল ইসলাম, যিনি টেপ্রীগঞ্জ কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। তিনি বর্তমানে দেবীগঞ্জ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি পোস্টটিতে সাংবাদিক লালন সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ও আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
সাংবাদিক লালন সরকারের দাবি, একজন শিক্ষকের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষক সামাজিক মাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়াই মন্তব্য করেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনের সময়ও শিক্ষক সামাজিক মাধ্যমে অতিরিক্ত সক্রিয় থাকেন।
৪ মার্চ জাহিদুল ইসলাম তার ফেসবুক আইডি থেকে সাংবাদিক লালন সরকার-এর বিরুদ্ধে মন্তব্য করে বলেন, (কয়েকদিন আগে কাগজ-কুড়ি বেড়ালি আর এখন সাংবাদিক হইলি)-এছাড়া, জুথি আক্তার নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকেও তার মন্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কুরুচিপূর্ণ মতামত প্রকাশ করা হয়।
এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে বিশেষ করে শিক্ষকদের আরও সংযত ও সচেতন হওয়া উচিত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক ও শিক্ষা অফিসের এক কর্মচারী তার আচরণের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের বিষয়ে মুঠোফোনে জাহিদুল বলেন, তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে জানান যে ফেসবুকে করা ওই মন্তব্য সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না।
সাংবাদিক মোঃ লালন সরকার দেবীগঞ্জ উপজেলায় দৈনিক আজকের বসুন্ধরা পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি অনলাইন পত্রিকার দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করছেন।
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর চন্দ্র সরকার জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।