মোমিন ইসলাম সরকার দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের সোনাহার বাজার এলাকায় বেহাল সড়ক সংস্কারের দাবিতে এলাকাবাসীর অভিনব প্রতিবাদের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শুরু হয়নি সড়কটির সংস্কার কাজ। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষ।বৃষ্টি হলেই দূর্ভোগ বাড়ে।কিছুদিন পরেই শুরু হবে মৌসুমী বৃষ্টি এবং ক্রমান্বয়ে আসবে বর্ষাকাল।হাজারও শিক্ষার্থী ও জনমনে শংকা সামনের বর্ষাও কি হাটু পানিতে রাস্তায় চলাচল করতে হবে। ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট সড়কটির বেহাল অবস্থার প্রতিবাদে স্থানীয়রা রাস্তায় ধান রোপণ করে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান কাজ শুরু হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।বাজারের পানি নিষ্কাশন ছাড়াও বাজারের পরিত্যক্ত ড্রেনগুলির বেহাল দশা।নোংরা পানি,পঁচা দূর্গন্ধ উপেক্ষা করে চলছে কাঁচা বাজার। মশা, মাছির উপদ্রবে বেড়ে চলেছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। স্থানীয়রা জানান, সোনাহার ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে সোনাহার বাজার জামে মসজিদ পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরা। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে সোনাহার ও দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের চলাচল দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষার্থী, বাজারে আসা ক্রেতা, মসজিদের মুসল্লি এবং সোনাহার ইউনিয়ন ক্লিনিক ও ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু রাস্তার এমন বেহাল অবস্থার কারণে তাদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় শিক্ষার্থী জসিম আলী বলেন, বৃষ্টি হলে রাস্তা কাদায় ভরে যায়। হাঁটা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় জুতা কাদায় আটকে যায়, পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। এতে স্কুলে যেতেও সমস্যা হয়। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক আলামিন খন্দকার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। দ্রুত সংস্কার করা না হলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। এ বিষয়ে সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মশিউর রহমান বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলছে। আশা করা যায় দ্রুত কাজ শুরু হবে। দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, বরাদ্দ পেলে সড়কটি সংস্কার করা হবে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সড়কটি সংস্কারের কাজ শুরু না হলে তারা আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।