মোমিন ইসলাম সরকার দেবীগঞ্জ পঞ্চগড় প্রতিনিধি,, দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের পেড়ালবাড়ী এলাকায় করতোয়া নদীর বালুচরে এখন তরমুজের মৌসুম। খেতজুড়ে সারি সারি তরমুজ—কোথাও বড়, কোথাও মাঝারি আকারের। কোনো জমিতে তরমুজ তোলার ব্যস্ততা, আবার কোথাও বিক্রির জন্য এক পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে ফল। দেবীগঞ্জ পৌর বাজারের সেতু পার হয়ে বাঁ পাশে এগোলেই এই গ্রাম। বছরের পর বছর ধরে এখানে তরমুজ চাষ করছেন কৃষকেরা। করতোয়া নদীর বালুচর ও এঁটেল মাটির মিশ্রণ তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় ফলনও হয় ভালো। স্বাদে মিষ্টি হওয়ায় স্থানীয় বাজারে এ এলাকার তরমুজের চাহিদা বেশি। তবে কয়েক বছর ধরে নদীর বালুচর বেশি জমিতে ঢুকে পড়ায় মাটির উর্বরতা কিছুটা কমেছে। এর প্রভাবে তরমুজের আকার আগের তুলনায় ছোট হচ্ছে বলে জানান কৃষকেরা। তবুও চলতি মৌসুমে ফলন প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বালুচরে ছোট ছোট লতায় ঝুলছে বিভিন্ন আকারের তরমুজ। পানির চাহিদা মেটাতে কৃষকেরা মাঠেই কূপ খনন করেছেন। খেত পাহারা দিতে মাঠের একপাশে ছোট ঘর তৈরি করে সার্বক্ষণিক অবস্থান করছেন অনেকে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেবীগঞ্জ এলাকায় ১৫-২০;জন কৃষক তরমুজ চাষ করেছেন। তাঁদের কেউ নিজস্ব জমিতে, কেউ বন্ধক নেওয়া জমিতে চাষ করছেন। প্রতি বিঘা জমির জন্য ৬ হাজার টাকা বন্ধকি দিতে হয়। ইতিমধ্যে খেতের তরমুজ চার থেকে পাঁচ কেজি ওজনের হয়েছে। চাষি দীনোরঞ্জন রায় জানান, তিন প্রজন্ম ধরে তাঁদের পরিবার তরমুজ চাষের সঙ্গে জড়িত। এ বছর তিনি চার বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ আবাদ করেছেন। এতে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বীজ রোপণের ৬০ দিনের মধ্যে তরমুজ বিক্রির উপযোগী হয়। বর্তমানে বাগান থেকেই পাইকারেরা প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে তরমুজ কিনে নিচ্ছেন। তবে পাতা কোঁকড়ানো ও ছত্রাকজনিত রোগে কিছু গাছ আক্রান্ত হওয়ায় দুশ্চিন্তা রয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার নাঈম মোর্শেদ জানান, করতোয়া নদীর বালুচরে এলাকায় তরমুজ সুস্বাদু এবং ফলনও ভালো। কৃষকদের নির্দিষ্ট সময়ে পরিচর্যা ও রোগবালাই দমনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কৃষি অফিস থেকে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য বিনা মূল্যে বীজ ও সার বিতরণ এবং নিয়মিত মাঠপর্যায়ে তদারকি অব্যাহত রয়েছে। এবারের তরমুজের বাম্পার ফলনে কৃষকদের মুখে ফিরেছে স্বস্তির হাসি।