মোমিন ইসলাম সরকার পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ে কলেজ প্রিন্সিপালের বাড়িতে সংঘটিত আলোচিত ডাকাতির ঘটনায় মূল রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ সময় লুণ্ঠিত আলামত ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ২টা ১০ মিনিটে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের যুগিভিটা এলাকায় প্রিন্সিপাল মফিজার রহমান কলেজের অধ্যক্ষ মো. নুরুল্লাহর বাড়িতে একদল সশস্ত্র ডাকাত হামলা চালায়। ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরে থাকা আলমারি, স্যুটকেস ও ড্রেসিং টেবিলে রক্ষিত প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালঙ্কার (আনুমানিক মূল্য ২০ লাখ টাকা), নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং একটি স্মার্টফোন লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা দায়ের হলে পুলিশ সুপার পঞ্চগড়ের নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের একটি দল এসআই মো. আবু হোসেন ও এসআই মো. নাহিদ হাসানের নেতৃত্বে ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৪ মার্চ গভীর রাতে পঞ্চগড়ের গাড়াতি ছিটমহল, পুকুরিডাঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত মজিবর রহমান (৩৫), রমজান আলী (৩০), সাদ্দাম হোসেন (৩০), আশিক (১৯) ও জুবায়ের (১৯) নামে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একটি স্মার্ট মোবাইল ফোন, একটি সিমকার্ড এবং ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি সাবল, একটি ছোট ছুরি ও দুটি বড় ছোরা উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় গত ৫ মার্চ রাতে মূল পরিকল্পনাকারী মো. আলম (৩৭) কে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আলম ভুক্তভোগী নুরুল্লাহর প্রতিবেশী। দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে থাকায় তিনি নুরুল্লাহর কাছে জমি বর্গা চেয়েছিলেন। কিন্তু তা না পেয়ে ক্ষোভ থেকে তিনি এই ডাকাতির পরিকল্পনা করেন। পরে কামরুলসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন। ঘটনার রাতে ডাকাতরা জানালার গ্রিল ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ লুট করে নেয়। এ সময় এক শিশুর কান্না থামাতে তাকে কেক খাইয়ে পানি পান করানোর ঘটনাও জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সাদ্দাম, জুবায়ের, রমজান, মজিবর ও আশিক বর্তমানে দুই দিনের পুলিশ রিমান্ডে রয়েছে এবং মূল পরিকল্পনাকারী আলম জেলহাজতে রয়েছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।