মোমিন ইসলাম সরকার,, দেবীগঞ্জ পঞ্চগড়, প্রতিনিধি: উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)-এর প্রজনন বীজ উৎপাদন কেন্দ্রে পুরনো প্রযুক্তির বিকল্প হিসেবে বারি উদ্ভাবিত ‘সবুজ ড্রোন’ ব্যবহার করে বালাইনাশক প্রয়োগ কার্যক্রমের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডঃ মোঃ শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে (২৭ জানুয়ারি) সকালে এই উদ্বোধনী ও মাঠ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আলু খেতে ড্রোনের মাধ্যমে বালাইনাশক প্রয়োগ করে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা সরাসরি প্রদর্শন করা হয়। উদ্বোধনের পর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে ড্রোন প্রযুক্তি বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডঃ মোঃ নুরুল আমিন, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (সিএসও), এফএমপি ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বারি, গাজীপুর; ডঃ মুহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইন, সিএসও, বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট, পঞ্চগড়, এবং ডঃ মাহবুবা বেগম, পিএসও, টিসিআরসি, বারি, গাজীপুর। দিনাজপুরের তরুণ উদ্যোক্তা জনাব সবুজ মিয়া মাঠ পর্যায়ে ড্রোনটি চালিয়ে দেখান। ড্রোন প্রযুক্তির কারিগরি দিক ও গবেষণার বিস্তারিত তুলে ধরেন গবেষণা দলের মেন্টর ডঃ মুহাম্মদ এরশাদুল হক, পিএসও, এফএমপি ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বারি, গাজীপুর। অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান হিসেবে উইগ্রো, ব্র্যাক ও বম্বে সুইটসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দেবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ডিএই) উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করেন। আলোচনায় জানানো হয়, আলু ছাড়াও আম, নারিকেল ও লিচু বাগানে বালাইনাশক ছিটাতে এই কৃষি ড্রোন ব্যবহার করা সম্ভব। বর্তমানে হাতে হেঁটে আলু খেতে বালাইনাশক স্প্রে করতে গিয়ে কৃষকদের পায়ের জুতায় গর্ত হয়ে যায় এবং আলু গাছে ইনজুরি সৃষ্টি হয়। কৃষি ড্রোন ব্যবহারে এসব ক্ষতি এড়ানো যাবে। ড্রোন ব্যবহারে শ্রম ও সময় সাশ্রয়, পানির কম ব্যবহার এবং বালাইনাশক সমানভাবে ছিটানো সম্ভব হবে। যেখানে ১৬ জন শ্রমিক দিয়ে একদিনে হাতে স্প্রে করে ২০ একর জমি আচ্ছাদন করা যায়, সেখানে কৃষি ড্রোন ব্যবহার করে মাত্র ১ থেকে ২ জন শ্রমিক ১.৫ থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যেই একই কাজ সম্পন্ন করতে পারবে