মোমিন ইসলাম সরকার, দেবীগঞ্জ পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে অবস্থিত বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট বীজ উৎপাদন কেন্দ্রে গম চাষে ইঁদুর দমন ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বীজ উৎপাদন কেন্দ্রে, বিডাব্লিউএমআরআই, ২০২৫–২৬ মৌসুমে রবি ফসলের বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্লক-৩ এলাকায় বারি গম-৩৩ জাতের প্রজনন বীজ ৪.৮০ হেক্টর জমিতে বপন করা হয়েছে। এছাড়াও বারি গম-৩০ ৫.৫ হেক্টর ও বারি গম-৩২ যথাক্রমে ৫.৫ হেক্টর জমিতে চাষ করা হচ্ছে। গমের সাথে বর্তমানে BWMRI হাইব্রিড ভুট্টা-২ উৎপাদন করা হচ্ছে। বিশেষভাবে BWMRI হাইব্রিড ভুট্টা-২, বারি খই ভুট্টা-১ (০.৭৫ হেক্টর) এবং বারি মিষ্টি ভুট্টা-১ (০.৮০ হেক্টর) চাষ করা হচ্ছে। কৃষি গবেষকরা মনে করছেন, কেন্দ্র থেকে সংগ্রহকৃত উচ্চমানের বীজ ব্যবহার করলে কৃষকের ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। দেবীগঞ্জ বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের কর্মকর্তা ড. মোঃ ইলিয়াছ হোসেন জানান,আমরা আধুনিক পদ্ধতিতে গম ও ভুট্টা চাষ করছি। লাইন বা সারিভিত্তিক নালাভিত্তিক গম চাষ একটি আধুনিক ও সাশ্রয়ী পদ্ধতি, যা বীজের অপচয় কমায়, সেচ ও সার ব্যবস্থাপনায় সুবিধা দেয় এবং ফলন বৃদ্ধি করে। এই পদ্ধতিতে জমি প্রস্তুত করে নির্দিষ্ট দূরত্বে (সাধারণত ২০-২৫ সেমি বা ৮ ইঞ্চি) সারি বা নালা তৈরি করে বীজ বপন করা হলে। সঠিক জাত (যেমন- বারি গম-৩৩) এবং ১৫-৩০ নভেম্বর উপযুক্ত সময়ে বপন করলে বাম্পার ফলন পাওয়া সম্ভব। আমরা ইঁদুর নিয়ন্ত্রণ এবং উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করি। কৃষকরা যদি আমাদের পদ্ধতি অনুসরণ করেন, তারা অধিক ফলন ও লাভবান হতে পারবেন। তিনি আরও বলেন,বারি গম৩৩-এর প্রতি কেজি গমে ৫০ থেকে ৫৫ মিলিগ্রাম জিংক ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশে উদ্ভাবিত এই জাতটি পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়তা করে, মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, মস্তিষ্ক বিকাশ এবং শারীরিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এটি নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিয়মিত ঋতুস্রাব বা রক্তক্ষরণ বজায় রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এটি একটি অত্যন্ত উপকারী পুষ্টি উপাদান। বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (BWMRI) নতুন উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তি বিএডিসির (BADC) মাধ্যমে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেয়। বাস্তবায়নকারী: বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট, দিনাজপুর মাননিয়ন্ত্রণকারী: বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সী, পঞ্চগড়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের জন্য উচ্চ ফলনশীল ও মানসম্মত গমের বীজ সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে, যা জাতীয় গম উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।