মোমিন ইসলাম সরকার দেবীগঞ্জ পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে অবস্থিত প্রজনন বীজ উৎপাদন কেন্দ্রে পুরনো প্রযুক্তির হিমাগার ও কম্প্রেসারের কারণে বিপাকে পড়েছে বীজ আলু সংরক্ষণ কার্যক্রম। আধুনিক সুবিধার অভাবে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বীজ আলু নষ্ট হলেও সীমিত সক্ষমতার মধ্যেই উৎপাদন ও গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। দেশের কৃষিখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই কেন্দ্রে বর্তমানে ৪৫টি জাতের বীজ আলু উৎপাদন করা হচ্ছে। এর মধ্যে বারি আলু–১৩ (গ্রানুলা), বারি আলু–২৯ (কারেজ), বারি আলু–৭ (ডায়মন্ড) ও বারি আলু–২৫ (স্টারিক্স) জাত কৃষক ও খামারিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। উচ্চ ফলন ও রোগ সহনশীল হওয়ায় এসব জাতের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।প্রজনন ভিত্তি আলুর পাশাপাশি কেন্দ্রটিতে গম, ধান, সরিষা,বার্লি,মিষ্টি কুমড়া, মুলা,মেটে আলু,পেঁয়াজ, কাসাভা,মিষ্টি আলু,ফুলকপি, সূর্যমুখী ও ল্যাভেন্ডারসহ বিভিন্ন ফসলের জাত উন্নয়ন ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।উত্তরবঙ্গের এটি শুধু একটি বীজ উৎপাদন কেন্দ্র নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবেও পরিচিত। মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ শাহাদাৎ হোসেন জানান, আলু পচনশীল হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণে উন্নত ও আধুনিক হিমাগার অত্যন্ত প্রয়োজন। তবে বর্তমানে ব্যবহৃত হিমাগারটিতে পুরনো কম্প্রেসার প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে নানা সীমাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন,গত অর্থবছরে প্রায় ৬৫৩ মেট্রিক টন ভিত্তি বীজ আলু সংরক্ষণ করা হয়। হিমাগারে পুরনো কম্প্রেসারের ত্রুটিতে একটি অংশ বীজ আলু নষ্ট হলেও তা গবেষণা ও সংরক্ষণ কার্যক্রমের স্বাভাবিক ঝুঁকির মধ্যেই পড়ে। নতুন ও আধুনিক হিমাগার স্থাপনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা মনে করেন, আধুনিক হিমাগার স্থাপন করা গেলে বীজ আলুর অপচয় কমবে, সরকারের অর্থ সাশ্রয় হবে এবং কৃষকরা আরও মানসম্মত বীজ আলু পাবেন। এতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে কেন্দ্রটির ভূমিকা আরও জোরদার হবে।