Thursday, 29 January 2026, 05:34 PM

আগামী নির্বাচনে তারেক রহমান ‘সুস্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছেন’ :...

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক টাইম ম্যাগাজিন আজ প্রকাশিত সর্বশেষ সংখ্যায় আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘সুস্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছেন’ বলে উল্লেখ করেছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পত্রিকাটি এই অভিমত দিয়েছে। 

আংশিকভাবে তারেক রহমানের সাক্ষাৎকারের উপর ভিত্তি করে লেখা নিবন্ধটিতে বলা হয়, ‘১৮ মাস আগে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে হাসিনার পতনের পর ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে তারেক রহমান স্পষ্টভাবে এগিয়ে আছেন।’ 

এতে বলা হয়, রহমান নিজেকে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়কার রাজনৈতিক অভিজাতদের এবং তার তরুণ বিপ্লবীদের আকাঙ্ক্ষার মধ্যে সেতুবন্ধন’ স্থাপন করেছেন।

টাইম ম্যাগাজিন লিখেছে, স্বৈরাচারী ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক দশক ধরে স্থানীয় মিডিয়ায় বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে তারেক রহমানের বক্তব্য প্রকাশ নিষিদ্ধ করেছিলেন।

১৭ বছরের নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে আসার পর নতুন বিএনপি চেয়ারম্যান যখন তার প্রথম সাক্ষাৎকারটি দিয়েছিলেন, তখন সাক্ষাৎকার গ্রহীতা রহমানের সাথে তার পারিবারিক বাড়ির বাগানে ‘বোগেনভিলিয়া এবং গাঁদা ফুলে ভরা’ অঙ্গনে তার সাথে কথা বলেছিলেন।

রহমান ম্যাগাজিনকে বলেন,‘বিষয়টি হল আমি খুব একটা ভালো বলতে পারিনা ... তবে যদি আপনি আমাকে কিছু বলতে বলেন, আমি আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করি’ । টাইম তার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে লিখেছিল, রহমান ছিলেন ‘নিপীড়িতদের মুক্তিদাতা যিনি তার বিধ্বস্ত মাতৃভূমিকে বাঁচাতে ফিরে এসেছেন’, যদিও তিনি ‘জোর দিয়ে বলেন যে তিনিই তার বিধ্বস্ত জাতিকে সুস্থ করার জন্য সঠিক ব্যক্তি।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমি আমার বাবা-মায়ের পুত্র বলে নয় (বরং) আমার দলের সমর্থকদের কারণেই আজ আমি এখানে আছি।’

ম্যাগাজিনটি বলেছে, গত ২৫শে ডিসেম্বর ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাতভর অপেক্ষা করা লক্ষ লক্ষ উচ্ছ্বসিত সমর্থক তাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। 

ম্যাগাজিনটির বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এর মাত্র পাঁচ দিন পর তার মা বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ অসুস্থতার পর মারা যান, তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আরও বেশি সংখ্যক মানুষ রাজধানীতে সমবেত হন। 

রহমান অশ্রু ভেজা চোখে পরিস্থিতি বর্ণনা করেছেন যে, ‘আমার হৃদয়ে খুব ভারী’।

তিনি বলেন, “কিন্তু তাঁর (খালেদা জিয়া) কাছ থেকে আমি যে শিক্ষা পেয়েছি তা হল যখন আপনার কোন দায়িত্ব থাকে, তখন আপনাকে তা পালন করতে হবে।” 

তবে টাইম পর্যবেক্ষণ করেছে যে, তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করা ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না এবং মন্তব্য করেছে যে ‘বাংলাদেশিরা তার কথা মেনে নিতে ইচ্ছুক বলে মনে হচ্ছে।’

ম্যাগাজিনটি উল্লেখ করেছে যে, ডিসেম্বরের শেষের দিকের জনমত জরিপে তার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর প্রতি প্রায় ৭০ শতাংশ সমর্থন দেখানো হয়েছে, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ১৯ শতাংশ সমর্থন রয়েছে।

টাইম লিখেছে যে, রহমান ‘মৃদুভাষী এবং অন্তর্মুখী ছিলেন, তিনি শুনতে পছন্দ করতেন’, অন্যদিকে লন্ডনে তার প্রিয় বিনোদন ছিল রিচমন্ড পার্কে ঘুরে বেড়ানো, ‘তার চিন্তাভাবনায় হারিয়ে যাওয়া বা ইতিহাসের বই পড়া’।

‘তার প্রিয় ছবি হলো এয়ার ফোর্স ওয়ান। তিনি ম্যাগাজিনকে জানান ‘আমি সম্ভবত এটি আটবার দেখেছি!” ।
টাইম এর বিশ্লেষনে বলা হয়, রহমান একজন ‘নীতিবিদ’ হিসেবে পরিচিত। তিনি যেকোনো বিষয়ে তথ্য ও পরিসংখ্যান সংগ্রহ করতে পারেন।
তিনি পানির স্তর পুরণে ১২,০০০ মাইল খাল খনন করতে, ভূমির অবক্ষয় রোধে বছরে ৫ কোটি গাছ লাগাতে  এবং ধোঁয়াশায় ঢাকা রাজধানীকে শ্বাস নিতে সাহায্য করার জন্য ঢাকায় ৫০টি নতুন সবুজ উদ্যান তৈরি করতে চান। 

রহমান ম্যাগাজিনকে বলেন, তিনি আবর্জনা পোড়ানো বিদ্যুৎ জেনারেটর স্থাপন, অভিবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কারিগরি কলেজ পুননির্মাণ এবং রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে উন্নত করার জন্য বেসরকারি হাসপাতালের সাথে অংশীদারিত্বের পরিকল্পনা করেছেন।

তিনি বলেন ‘আমি যদি আমার পরিকল্পনার মাত্র ৩০ শতাংশ বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে আমি নিশ্চিত বাংলাদেশের মানুষ আমাকে সমর্থন করবে। ।

২০০৭-২০০৮ সালের সামরিক-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় রহমানকে ১৮ মাস কারাদন্ড দেয়া হয়েছিল।

তিনি কারাগারে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, যার ফলে মেরুদণ্ডের সমস্যা হয়েছিল যা আজও তাকে কষ্ট দেয় এবং তার যুক্তরাজ্যে যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল চিকিৎসা নেওয়া। ’ তিনি বলেন ‘যদি শীতকাল খুব ঠান্ডা থাকে, তাহলে আমার পিঠে ব্যথা হয়।’ ।

// Disable right-click context menu // Disable text selection // Disable dragging of images and text // Disable copy events // Disable common keyboard shortcuts for copying // Check for Ctrl/Command key combinations with C, X, S, or P