Thursday, 12 February 2026, 05:39 AM

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জিতলে দেশ পাল্টে যাবে, আর...

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে দেশ পাল্টে যাবে এবং দেশে আর অপশাসন ফিরে আসবে না। সামনে যে নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তা দেশের রাজনৈতিক কাঠামোয় এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

আজ সোমবার সকালে সচিবদের সঙ্গে গেট টুগেদার অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে তার বক্তব্য তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

প্রেস সচিব জানান, গেট টুগেদার অনুষ্ঠানে সিনিয়র সচিব ও সচিবসহ প্রায় ৭০ জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রধান উপদেষ্টা সীমিত পরিসরে বক্তব্য রাখেন এবং পরে সচিবদের সঙ্গে ছবি তোলেন।

শফিকুল আলম জানান, আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, অতীতে যেসব নির্বাচন হয়েছে, সেগুলো প্রকৃত অর্থে নির্বাচন ছিল না; সেগুলো ছিল এক ধরনের ভুয়া নির্বাচন। তবে এবারের নির্বাচন হবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ। নির্বাচনের আর মাত্র দুই দিন বাকি এবং দেশ প্রায় লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেছেন, এই নির্বাচন ও গণভোট দেশের রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে একটি অভূতপূর্ব পরিবর্তন নিয়ে আসবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা সরাসরি দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। অতীতে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণঅভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক আন্দোলনে প্রবাসীদের যে ভূমিকা ছিল, এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে সেই ভূমিকা আরো মর্যাদাপূর্ণ ও সুসংহত হয়েছে। এখন থেকে তারা দেশের বিভিন্ন বিষয়ে আরো বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারবেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ভোটদান প্রক্রিয়াকে সবার জন্য আরো সহজ করেছে। ভোটাররা কীভাবে ভোট দেবেন, সে বিষয়ে একটি অ্যাপ চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, সে জন্যও আলাদা নির্বাচনভিত্তিক অ্যাপ ব্যবহৃত হচ্ছে।

তিনি জানান, ‘নির্বাচন বন্ধু হটলাইন-৩৩৩’ চালু করা হয়েছে। প্রায় ২৫ হাজার ৭০০টি বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের ফলে এবারের নির্বাচন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভালো হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, নানা দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসছেন। এটি প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে এটি প্রতিফলন করে যে, তারা বাংলাদেশের এই নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সময়ে অনুষ্ঠিত আগের তিনটি নির্বাচনের কোনো বৈধতা ছিল না এবং সে সময় উল্লেখযোগ্য কোনো আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষকও আসেননি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এ পর্যন্ত নির্বাচনকে ঘিরে তেমন কোনো উত্তেজনা সৃষ্টি হয়নি। নির্বাচনী প্রচারণা খুবই শান্তিপূর্ণভাবে হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। নেতারা যেখানে যাচ্ছেন, সেখানে মানুষের উপস্থিতি বেশি হলেও প্রচারণা শান্তিপূর্ণ থাকছে।

অধ্যাপক ইউনূস সচিবদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, গত ১৮ মাসে তারা যে কাজ করেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। প্রায় ১৩০টি অধ্যাদেশ জারি ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সচিবরা সহযোগিতামূলক ভূমিকা রেখেছেন এবং এসব কাজ দ্রুত সম্পন্ন করেছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সামনে উত্তরোত্তর উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে এসে কারখানা স্থাপন করবেন। দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী একটি বিশাল সম্পদ, যা ভবিষ্যতে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির কারণে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে অন্যান্য দেশে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়া যাবে। এই বাস্তবতার কারণে অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে কারখানা স্থাপনে আগ্রহী হবেন।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সুন্দরভাবে নির্মিত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধান উপদেষ্টা।

// Disable right-click context menu // Disable text selection // Disable dragging of images and text // Disable copy events // Disable common keyboard shortcuts for copying // Check for Ctrl/Command key combinations with C, X, S, or P