কিশোরগঞ্জ,(নীলফামারী)প্রতিনিধিঃ
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার কিসামত রনচন্ডী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াশ ব্লক নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে একাধিকবার অভিযোগ করার পরেও কাজ না হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক,কর্মচারী, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়া রোধে এ ওয়াশ ব্লক তৈরি করা হচ্ছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লকটির বরাদ্দ প্রায় ১৩ লাখ টাকা। বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লকে থাকবে ছাত্রছাত্রীদের জন্য ২টি হাত ধোয়ার বেসিন, দুইটি বাথরুম, ২টি কমোড, আলাদা ৪টি প্রস্রাবখানা। এছাড়াও থাকবে বিদ্যুৎচালিত পাম্প ও পানির ট্যাংকি।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানা যায় ছাদের ঢালাইয়ের কাজে পরিমাণে কম সিমেন্ট ব্যবহার, উন্নতমানের খোয়ার পরিবর্তে রাবিশ, নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার, মাটি-বালির ওপরে বেজ ঢালাই, বেশকিছু স্থানে পরিমাণে কম রড ব্যবহার করেছে নির্মাণাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় ওয়ালের একজায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। শুধু তাই নয়,বিদ্যালয়টির ওয়াশব্লকের গ্রীল এখন লাগানো হয়নি। ভিতরের সব কাজ বাকি। দরজাগুলো নিম্নমানের লাগানো হয়েছে। বাথরুমের শকওয়েল ও ট্যাংকি নিম্নমানের। এ বিষয়ে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির আহবায়ক ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার বাসু দেব রায় বলেন, আমি ব্যস্ত থাকি সব সময়তো খোজ নিতে পারি না। স্কুলে প্রধান শিক্ষক সব জানার কথা। যদি কাজের অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে উর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে জানাবো। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম জানান, সিডিউল অনুযায়ী যেভাবে কাজটি করার কথা সেভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করেন নাই। কাজ শেষ না হইতে দেয়ালে ফাটল ধরেছে। বিদ্যালয় কোমলমতি শিশুদের শিক্ষার স্থান এখানে যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবো আমরা। তাই আমি কাজের অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ দিয়েছি। অভিযোগ দিয়েও এখনো কোন সুরাহা পায়নি। ওয়াশ ব্লকটির টিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাব-ঠিকাদার খায়রুল বাশার এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন,কাজের কোন অনিয়ম হলে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল রয়েছে তিনি ব্যবস্থা নিবেন।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন যেহেতু প্রধান শিক্ষক উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বরাবর অভিযোগ দিয়েছে। সেক্ষেত্রে শিক্ষা অফিসারসহ আমি ওই স্কুলে যাবো। গিয়ে দেখবো কি অনিয়ম হয়েছে। অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।