মোমিন ইসলাম সরকার দেবীগঞ্জ পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দন্ডপাল ইউনিয়নের মৌমারী এলাকায় অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালাতে গিয়ে শ্রমিকদের বাধার মুখে পড়ে অভিযান না চালিয়েই ফিরে যেতে হয়েছে প্রশাসনকে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের একটি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট টিম অভিযান পরিচালনার উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় উপস্থিত হয়। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. ইমাম রাজী টুলু, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আসিফ আলী, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সোহেল রানা এবং পঞ্চগড় পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. ইউসুফ আলী। অভিযানকালে ইটভাটা মালিক ও শ্রমিকরা এর বিরোধিতা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রশাসনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় দেবীগঞ্জ সেনা ক্যাম্পের সেনাবাহিনীর একটি টিম। পরে শ্রমিকদের তীব্র বাধার মুখে পড়ে প্রশাসন কোনো অভিযান পরিচালনা না করেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ বিষয়ে শ্রমিকরা জানান, তারা দিনমজুর হিসেবে ইটভাটায় কাজ করেন। এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো শিল্পকারখানা না থাকায় ইটভাটাই তাদের একমাত্র আয়ের উৎস। ইটভাটা বন্ধ হয়ে গেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা চরম বিপাকে পড়বেন বলে দাবি করেন। জানা গেছে, মৌমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিকটবর্তী এলাকায় অবস্থিত তিনটি ইটভাটার পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকায় সেগুলোকে অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ইটভাটা বন্ধের উদ্দেশ্যেই জেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করতে যায়। এ সময় শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ করে দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল এবং সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। দন্ডপাল ইউনিয়নের মৌমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ‘মেসার্স এম এস ব্রিকস’ ইটভাটাটি উচ্ছেদের জন্য একাধিকবার চেষ্টা চালিয়েও প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দেবীগঞ্জ উপজেলায় মোট ১৮টি ইটভাটা রয়েছে, যার মধ্যে মাত্র তিনটি ইটভাটা বৈধতা পেয়েছে। দেবীগঞ্জ উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি শাহিন বলেন, আজ ইটভাটা বন্ধ করতে প্রশাসন ঘটনাস্থলে আসে। শ্রমিকরা বাধা দিলে তাদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন ফিরে যায়। তবে এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে বলে জানানো হয়েছে। পঞ্চগড় জেলা ট্রাক্টর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম বলেন, এই ইটভাটাগুলো বন্ধ হয়ে গেলে শ্রমিকরা কোথায় যাবে? এই এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো মিল-ফ্যাক্টরি নেই। ইটভাটাগুলোই শ্রমিকদের শেষ ভরসা। তাই তারা প্রশাসনের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে তিন মাস সময় চেয়েছে। অভিযান তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।